সোমবার ডানলপে জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভোটের আগে প্রধান বিরোধী তৃণমূলকে আক্রমণ করায় কোনরকম খামতি রাখেননি বিজেপি প্রধান। জনসভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু দাবি করেছেন তিনি। সেই দাবিগুলিকেই খতিয়ান পেশ করে নস্যাৎ করল তৃণমূল।
দলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েন টুইট করে দলের তরফে খতিয়ান প্রকাশ করেছেন।
দেখে নেওয়া যাক প্রধানমন্ত্রীর দাবি আর তৃণমূলের জবাবঃ
মোদীর দাবি ১
হিন্দুদের বাংলায় মা দূর্গার পুজো করতে বাঁধা দেয় রাজ্য সরকার।
তৃণমূলের জবাব
গত বছর প্রতিটি ক্লাবকে দুর্গা পুজো করার জন্যে ৫০,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ক্লাবগুলিকে প্রতিবছর ২৫,০০০ টাকা করে দেওয়া হত। করোনাকালে ক্লাবগুলিকে দুর্গা পুজোর সময় ফায়ার ব্রিগেডের পরিষেবা বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবাতেও ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। দুর্গাপুজোর পরেও রাজ্যেও প্রত কৃষক এবং জেলেকে ২,০০০ টাকা করে অগ্রিম বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বাংলা কার্নিভ্যাল আর বাংলার দুর্গা পুজো পৃথিবীর দুই বৃহত্তম উৎসব।
মোদীর দাবি ২
বাংলার উন্নতিতে বাঁধা দিচ্ছে তৃণমূল।
তৃণমূলের জবাব
রাজ্যের মানুষের গড় রোজগার এই কবছরে দ্বিগুণ হয়েছে। যেখানে ২০১০ সালে রাজ্যবাসীর রোজগারের গড় ছিল ৫১,৫৪৩ টাকা, সেখানে এখন রোজগার ১,০৯,৪৯১ টাকা। জিডিপি ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যা ছিল ৪.৫১ লক্ষ কোটি, এখন তা ৬.৯ কোটি। কৃষিতেও ৩০ শতাংশ রোজগার বেড়েছে, শিল্পে ৬০ শতাংশ এবং কর্মক্ষেত্রে ৬২ শতাংশ রোজগার বেড়েছে। বাংলার বাজেট গত কয়েক বছরে তিনগুণ বেড়েছে। ৮৪,৮০৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এখন তা ২.৫৫ লক্ষ টাকা হয়েছে।
মোদীর দাবি ৩
বাংলার কৃষকরা পিএম কিষাণ যোজনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তৃণমূলের জবাব
বাংলায় কৃষকদের জন্যে কৃষক বন্ধু প্রকল্প আছে। ততসত্ত্বেও ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফভ থেকে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রককে ২.৫ লক্ষ কৃষকের নাম জানিয়ে রাজ্যে পিএম কিষাণ শুরু করার জন্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের তরফ থেকে এখনো কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিগত ১০ বছরে রাজ্যের কৃষকদের রোজগার তিনগুণ হয়েছে। কেন্দ্র ২০২২- এ দেশের কৃষকদের রোজগার দ্বিগুণ করার কথা দিলেও আগামি ২০২৮- এর আগে সেরকম কোন সম্ভবনা নেই।
মোদীর দাবি ৪
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বাংলাকে।
তৃণমূলের জবাব
বাংলার আয়ুষ্মান ভারতের থেকেও ভালো প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী রয়েছে। কেন্দ্রের প্রকল্পের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারকে ৪০ শতাংশ ব্যয় বহন করতে হবে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে দেশের ৪০ শতাংশ মানুষকে আনা হয়েছে। যেখানে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ১০০ শতাংশ মানুষই রয়েছেন। আয়ুষ্মান ভারত কার্ড করাতে ৩০ টাকা করে দিতে হয়, অর্থাৎ ৫ জনের পরিবারে ১৫০ টাকা। সেখানে স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড বিনামূল্যে করানো হয়।
মোদীর দাবি ৫
কেন্দ্রের দ্বারা বরাদ্দ ১৭০০ কোটি টাকা প্রতি পরিবারে স্বচ্ছ পানীয় জল পৌঁছনোর জন্যে ব্যবহার করে নি রাজ্য সরকার।
তৃণমূলের জবাব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জল স্বপ্ন প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। যেখানে ২ কোটি পরিবারে স্বচ্ছ পানীয় জল পৌঁছে যাবে। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকার ব্যয় করছে ৫৮,০০০ কোটি টাকা।
মোদীর দাবি ৬
বাংলা একসময় শিল্পের কেন্দ্র ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরো উল্টো। বাংলার মানুষকে এখন কাজের খোঁজে রাজ্যের বাইরে যেতে হয়।
তৃণমূলের জবাব
বাংলায় এই মুহুর্তে ৮৯ লক্ষ ছোট শিল্প রয়েছে। যেখানে ২০১২ সালে মাত্র ৩৪.৬ লক্ষ ছিল। ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষ কাজ করছে সেখানে। বাংলায় কারখানার সংখ্যাও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলার সর্ব বৃহৎ আইটি হাব সিলিকন ভ্যালি রয়েছে।
মোদীর দাবি ৭
পাট, আলু শিল্প বাংলায় ধুকছে।
তৃণমূলের জবাব
রাজ্য সরকারের শ্রম মন্ত্রক যুবক- যুবতীদের পাট শিল্পের ট্রেনিং দিচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রক সেখান থেকে ৭ কোটি পাটের ব্যাগ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলার কৃষকদেরও ক্ষতিকারক প্লাস্টিক ব্যাগের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহী করা হচ্ছে। কেন্দ্র তরফেই বরং পাট কারখানার বোর্ডগুলিকে বন্ধ করা হয়েছে।
আলুর ক্ষেত্রে ১০০০ হেক্টর জমিকে আলু চাষের জন্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজ্যের ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু কেনার ক্ষমতা রয়েছে। মহামারীর সময় কেন্দ্র সরকার আলুর দাম বৃদ্ধি আটকাটে অসামর্থ হলে রাজ্য সরকার ২৫ টাকা কেজিতে রাজ্যবাসীকে আলু দিয়েছে। আলুকে কেন্দ্র অপরিহার্য্য পণ্য থেকে বাদ দিয়েছে।
মোদীর দাবি ৮
বিজেপি সরকার বাংলার রেলে উন্নয়ন নিয়ে এসেছে।
তৃণমূলের জবাব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকের সমত দমদম- দক্ষিনেশ্বর মেট্রোর কাজ শুরু হয়। সেই সময় বহু প্রকল্পের সূচনা হলেও, বিগত সাত বছরে কোন কাজ করেনি বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সূচনা করা ৩১ টি প্রকল্পকে টাকা দেওয়া বন্ধ করেছে কেন্দ্র।
মোদীর দাবি ৯
ব্যারাকপুর- দক্ষিণেশ্বরে নতুন রেলপথ শুরু করার দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
তৃণমূলের জবাব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ২০১১ সালের ২৫ শে ফেব্রুয়ারি ওই বাজেট পাশ হয়। https://twitter.com/BanglarGorboMB/status/1363843485011378176?s=20

Comments
Post a Comment