বিজেপি নেতার দেহরক্ষীদের হামলায় জখম হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। রবিবার রাতের সেই ঘটনার জেরে রাত থেকেই বিজেপি নেতার গ্রেপ্তারের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন শুরু করে শাসক দল। সোমবারও ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতৃত্ব আন্দোলন চালিয়ে যায়। পাল্টা আন্দোলনে নামে বিজেপিও। এনিয়ে সোমবার দুপুর পর্যন্ত শ্রীরামপুরে টানটান উত্তেজনার পরিবেশ ছিল। দুই দলের শীর্ষনেতারা এই ইস্যুতে ময়দানে নামায় উত্তেজনার পারদ আরও চড়ছিল। শেষপর্যন্ত দুপুরে বিজেপি রাজ্য নেতা কবীরশঙ্কর বসুকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তারপরেই শাসকদলের আন্দোলন থামে। যদিও এদিনই শ্রীরামপুর আদালত কবীরবাবুকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্তি দিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রীরামপুর শহরের সহ সভাপতি সন্তোষ সিং (পাপ্পু) বলেন, একজন মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা দলের সদস্য হওয়ায় ধরাকে সরা জ্ঞান করছিলেন। সাধারণ মানুষের উপরে নির্বিচারে লাঠি চালানোর জন্য দেহরক্ষীদের উস্কানি দিয়েছিলেন। গণতান্ত্রিক দেশে এই সামন্ততান্ত্রিক আচরণের আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। পুলিস শেষপর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ করেছে। তাই আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। আদালতের রায় নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। বিজেপির (Bjp) শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামল বসু বলেন, পুলিস দলদাসের মতো আচরণ করেছে। আদালতে আমাদের জয় হয়েছে। বিচারক কবীরবাবুকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। আইনের নামে পুলিস প্রহসন করছে এরাজ্যে। শ্রীরামপুরের ঘটনা তারই প্রমাণ।রবিবার রাতে শ্রীরামপুর শ্মশানকালী মন্দিরের কাছে নিজের ফ্ল্যাটে ঢুকতে যাচ্ছিলেন বিজেপির রাজ্যনেতা কবীরবাবু। সেই সময় সেখানে তৃণমূলের একটি সভা চলছিল। অভিযোগ, সেই সভাকে উপেক্ষা করে কবীরবাবুর দেহরক্ষীরা তাঁকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পাশাপাশি ভিড় সরাতে তৃণমূলকর্মীদের উপরে হামলা করে। এতেই পরিস্থিতি ঘোরাল হয়ে ওঠে। উত্তেজিত তৃণমূলকর্মীরা কবীরবাবুর গাড়ি ভাঙচুর করে। রাতেই এলাকায় বিরাট পুলিস বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। ইতিমধ্যেই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের নেতারা ঘটনাস্থলে চলে আসেন। কল্যাণবাবু ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে অবস্থানে বসে পড়েন। গভীর রাত পর্যন্ত সেই অবস্থান চলে।
এরপর সকাল থেকে ফের ওই নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করে তৃণমূল (Trinamool)। থানার সামনেও অবস্থান বিক্ষোভ করে শাসক দল। পাল্টা রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনে নামে বিজেপি। পরে থানার সামনে বিক্ষোভ অবস্থান শুরু হয়। সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে এসে পুলিস বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। শেষপর্যন্ত দুপুরের কিছু পরে ওই বিজেপি নেতা গ্রেপ্তার হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

Comments
Post a Comment