আমরা ভাগাভাগি করি না। উদ্বাস্তুদের ভাগ করি না। হিন্দু মুসলমান করি না। তৃণমূল মা আম্মি মাদারে ভেদাভেদ করে না। মা মাটি মানুষ প্রতারণা করতে পারেনা। আজ আবারও সেই চেনা ভঙ্গিতে কোচবিহারের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সিপিএমের অত্যাচার ভুলে গেছেন? উত্তরবঙ্গের লাঞ্চনা ভুলে গেছেন। প্রকৃত তৃণমূল যারা সেদিন সিপিএমকে ভয় পায় নি, আজ বিজেপিকেও পাবেনা। প্রকৃত তৃণমূলরা বিজেপির কাছে কেউ মাথানত করে না।
কেন্দ্রের নির্বুদ্ধির জন্য প্রস্তুতি ছাড়া লকডাউন ঘোষণার ফলে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্গতি নিয়ে সকলেই অবগত। সেই পরিস্থিতি মনে করিয়ে তিনি বলেন, পরিযায়ীরা দিল্লি, মুম্বাই থেকে পায়ে হেঁটে ফিরেছে। কত শ্রমিক রাস্তায় মারা গেছে। বিজেপি (BJP) এখান থেকে জিতেছে। কিন্তু এখানকার পরিযায়ীদের ওপর তাদের মায়া হয় নি। ট্রেনের ভাড়া পর্যন্ত ছাড়েনি। তাদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ট্রেনের ভাড়া, বাস পাঠিয়ে ফিরিয়ে আনার বাসের ভাড়া, খাবারের খরচ, চিকিৎসা করাতে গিয়ে আটকে পরলে সেখানে হোটেলে থাকার খরচ সমস্ত রাজ্য সরকার দিয়েছে। বিজেপি এখানে আসন পেয়ে পালিয়ে গেছে। রাজ্যের জনগণকে সব দেব আমরা, কিন্তু সব বিষয়ে কৈফয়েত চাইবে ওরা। তিনি বলেন।
বিজেপির বাংলায় কর্মপদ্ধতি সম্বন্ধে তিনি বলেন, ওদের কাজ নেই কর্ম নেই। একটাই কাজ তৃণমূলের নামে মিথ্যে বলা আর কুৎসা করা। সকাল থেকে বলে, মেরে দাও, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। কখনো ওদের বলতে শুনেছেন খাদ্য দাও, বাসস্থান দাও, বস্ত্র দাও?
বিজেপিকে হুঙ্কার দিয়ে তিনি বলেন, বন্দুকের সামনে লড়েছি, আমি ভয় পাই না। বলুন, কবে রাজনৈতিক যুদ্ধ করবেন আমার সঙ্গে? কবে গণতন্ত্রের যুদ্ধ করবেন আমার সঙ্গে? মদনমোহনকে সাক্ষী রেখে লড়াই হোক। তারিখ আপনারা ঠিক করুন। আপনাদের সঙ্গে থাকবে বহিরাগত গুন্ডা, আমার সঙ্গে থাকবে মানুষ। গান্ধিকে খুন করা লোকরা বিজেপির।
বিজেপির গুন্ডামি রুখতে আহ্বান জানান তিনি সকলকে। তিনি বলেন, ওদের গুন্ডামি না রুখলে ওরা “জন গণ মন” তুলে দেবে। রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান ভুল বলছে। বিরসা মুন্ডা বলে অন্যজনের গলায় মালা দিচ্ছে। বাংলায় আসন চাইছে এদিকে বাংলার সম্বন্ধে এটুকু জ্ঞ্যান বিজেপির নেতাদের নেই। তিনি এবার সরাসরি আক্রমণ হেনে বলেন। ওরা সব বহিরাগত। ওরা সব চম্বলের ডাকাত। পুলিশকে ভয় দেখাচ্ছে, তৃণমূলকে (Trinamool) ভয় দেখাচ্ছে। ছ বছরে চুনোপুঁটি নেতারা বিজেপির পয়সায় ফুলে ফেঁপে আজ রাঘব বোয়াল হয়েছে।
বিজেপির মিথ্যে ও কুৎসায় সায় না দিয়ে মানুষকে বিজেপির ও বিজেপির অঙ্গুনিহেলনে চলা মিডিয়ার প্রচারের মিথ্যের চাদর সরিয়ে নিজের মাটিকে নিজে চিনতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। ছ বছরে কী দিল বিজেপি? তিনি জানতে চান বিজেপি তাদের প্রতিশ্রুতিমোট প্রত্যেকের ব্যাঙ্কে ১৫ লক্ষ টাকা ও বছরে ২ কোটি করে বেকারকে চাকরি দিয়েছে? বিজেপির প্রতিশ্রুতি মানেই চিটিংবাজি। কেন রাজ্য সরকার বিমানবন্দর করে দেওয়ার পরেও কোচবিহারের বিমানবন্দরে বিমান নামে না? জানতে চান তিনি।
পাড়ায় পাড়ায় বহিরাগত আরএসএসের গুন্ডাদের থেকে সকলকে সাবধানে থাকতে বলেন। তিনি বলেন, আপনাদের এসে হিন্দু মুসলিম বলে বিভেদ ছড়াবে আর ওদিকে ভোটার লিস্ট থেকে আপনার নাম বাদ দিয়ে দেবে। আমরা এনপিআর করতে দিই নি, করতে দেব না। নির্বাচনের আগে ভোট কিনতে বিজেপি যে টাকা ছড়ায়, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাজ্য সরকারের প্রকল্প আছে। বিজেপির পাপের টাকা নেবেন না।

Comments
Post a Comment