বিজেপির সঙ্গে বাংলার কোনও সম্পর্ক নেই। তারা বাংলা বিরোধী। বহিরাগত। এই তকমা তৃণমূলের তরফে কেন্দ্রীয় শাসকদেরকে আগেই দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই বুধবার পোস্তায় দাঁড়িয়ে নাম না করে বিজেপিকে চড়া সুরে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘বাইরে থেকে এসে গুন্ডাগিরি করতে চাইছে। সকলকে একত্রিত হয়ে এই গুন্ডাগিরি রুখে দিতে হবে।’
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্য-রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। প্রতিদিনই বাংলা দখলের টার্গেট নিয়ে নতুন করে স্ট্র্যাটেজি সাজাচ্ছে বিজেপি। তবে তৃণমূল ভরসা রেখেছে মানুষের আস্থাতেই। রাজ্যের শাসক দল মনে করে, বাংলার মানুষ যেভাবে ২০১১ ও ২০১৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূলকে ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে ২০২১ সালেও। শুধু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, গত বারের থেকে আরও বেশি সংখ্যায় বিধায়ক নির্বাচিত হবেন, এমনটাই বাংলার মানুষের উপর তৃণমূলের বিশ্বাস। আর সেই আস্থা থেকেই ২১ জুলাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দৃপ্তকণ্ঠে বলেছিলেন, বহিরাগতরা বাংলা শাসন করবে না। বাংলা শাসন করবে বাংলার মানুষ।
এদিন ফের সেই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে মমতার গলায়। পোস্তায় জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে অনেকেই বাইরে থেকে আসবে। অনেক কথা বলবে। বাইরে থেকে গুন্ডা নিয়ে আসবে। ভয় পাবেন না। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের প্রত্যয়ী বার্তা, আমরা শান্তিতে কাজ করতে চাই। বাইরে থেকে এসে গুন্ডাগিরি করতে চাইছে। আমরা এটা করি না। এখানে অশান্তি করা চলবে না। এর আগেও তৃণমূল নেতৃত্ব একাধিকবার বলেছে, বিজেপি বাইরে থেকে গুন্ডা নিয়ে এসে বাংলায় অশান্তি বাধানোর চেষ্টা করছে। বাংলার মানুষ তা প্রতিহত করবেন বলে দাবি রাজ্যের শাসকদলের।
এদিন জগদ্ধাত্রী ও ছট পুজো উপলক্ষে রাজ্যের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের পাশে সম্পূর্ণভাবে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন। পোস্তা বাজারের ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, কেউ আপনাদের তুলতে পারবে না। লকডাউনের সময় আপনারা যেভাবে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিয়েছেন, আমি আপনাদের পাশে আছি। আপনাদের সরকার আপনাদের পাশে আছে। জমি নিয়ে কোনও সমস্যা হলে আমরা দেখে নেব। অনেক রাজ্যে ছট পুজো বন্ধ করে দেওয়া হলেও বাংলায় তা করা হয়নি বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর পরামর্শ, ঘরে, পুকুরে বা গঙ্গায় যেখানেই হোক এক জায়গায় অনেক মানুষ জড়ো হবেন না। ছোট করে পুজো করুন। স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখুন।
বহিরাগত ইস্যুতে এদিন দলের সদর কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর বক্তব্য, বহিরাগত ব্রিগেড বাংলায় এসেছে। কর্মীদের সতর্ক থাকতে ও নজর রাখতে বলা হয়েছে। তাঁরা যদি কোনওভাবে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। ‘টার্গেট’ শব্দটি নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন তিনি। বলেছেন, টার্গেট তো করা হয় পাকিস্তান কিংবা চীনকে। কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা দল বাংলাকে কেন টার্গেট করছে? তার মানে তো বাংলার মানুষকে অপমান করা। বিজেপি যতই গুজরাত মডেলের তত্ত্ব খাড়া করুক, তৃণমূলের বক্তব্য, বাংলার থেকে ঢের পিছিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্য। এই অবস্থায় বিজেপির বাংলা দখল ‘দিবাস্বপ্ন’ থেকে যাবে বলে তৃণমূল নেতৃত্বের সাফ বক্তব্য।

Comments
Post a Comment