তৃণমূলে আসছেন শোভন-বৈশাখী-রাহুল-তথাগত ? বিভাজন ঘিরে বাড়ল জল্পনা


শোভন-বৈশাখী থেকে রাহুল সিনহা, তথাগতরা গরহাজির বিজেপির দুর্গা পুজোয় – একুশের আগে বিভাজন বাড়ছে পদ্মশিবিরে

দুর্গাপুজোর মরশুমেও বিভাজনের কাঁটা থেকে মুক্ত হতে পারল না বিজেপি। উল্টে দুর্গাপুজোই বেশি করে স্পষ্ট করে দিয়ে গেল গোরুয়া শিবিরের বিভাজন রেখা। দিলীপ-সৌমিত্রের বিবাদ ছাড়াও বিজেপির দুর্গাপুজোতেও দেখা গেল হেভিওয়েট নেতাদের গরহাজিরা। মুকুল-কৈলাশরা সক্রিয় হলেও অনেকের মুখ দেখা গেল না পুজোতে।

আজকের নবমী নিশি পোহালেই বিদায়ের সুর বেজে যাবে। কিন্তু বিজেপি নেতাদের দেখা নেই গেরুয়া শিবিরের পুজোতে। প্রথম থেকেই এই পুজোকে ঘিরে বিজেপির অন্দরে ফাটল তীব্র হচ্ছিল। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ একদিকে, অন্যদিকে মুকুল রায়। একজন পুজোর বিপক্ষে, অন্যজন পুজোর পক্ষে। তা নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যেই শুরু হয়েছিল পুজো।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভার্চুয়াল ভাষণ দিয়ে উদ্বোধন করেছিলেন বিজেপির পুজোর। কিন্তু সেই ভার্চুয়াল সমাবেশে ছিলেন না শোভন-বৈশাখী। আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও তাঁরা আসেননি। উল্টে শোভন-বৈশাখী মেতেছিলেন মমতার পাঠানো উপহার নিয়ে। মোদীর উদ্বোধনে না গিয়ে দিদির উপহারেই খুশি থেকেছেন তাঁরা।

শুধু শোভন-কাঁটা নয়, বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহাও গরহাজির ছিলেন বিজেপির পুজো উদ্বোধনে। পুজোর কোনও অনুষ্ঠানেই তাঁকে দেখা যায়নি। তিনি না যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেননি। তিনি কার্যত এড়িয়েই গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠান।

আর একজন হলেন তথাগত রায়। তথাগত রায় রাজ্যপালের পদ ছেড়ে বিজেপিতে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়ে বাংলায় ফিরেছিলেন। বিজেপির প্রাক্তন এই রাজ্য সভাপতি অনাহুতই রয়ে গিয়েছেন। তাঁকে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। তিনি আসেনওনি। ফলে প্রথম থেকে যে অনৈক্যের ছবি স্পষ্ট হয়েছিল, তা নবমী পর্যন্ত অটুট রয়েছে।

আর এই অনৈক্যের ছবিতে সংযোজিত হয়েছে দিলীপ বনাম সৌমিত্র কাজিয়া। ভরা দুর্গাপুজোর মরশুমে সৌমিত্রর কমিটি বাতিল করে কার্যত মুকুল রায়কে বার্তা দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। মুকুল ঘনিষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধে তিনি নালিশ ঠুকতেও পিছপা হননি। সৌমিত্র সমান্তরাল সংগঠন চালানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

সব মিলিয়ে বঙ্গ বিজেপিতে এখন কোন্দল তুঙ্গে। মুকুল বনাম দিলীপ আরও ক্ষুরধার হয়েছে দ্বন্দ্ব, তারপর বিভাজন রেখা স্পষ্ট হয়েছে রাহুল সিনহা, তথাগত রায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়দের সঙ্গেও। মোট কথা বঙ্গ বিজেপিতে অশান্তি বাড়ছে। তৃণমূলে নাম লেখানোর হিড়িক তুঙ্গে এখন। ২১শের আগেই কি অল আউট হতে পারে বিজেপি শিবির ? তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন এরা ? সময়ই বলবে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কি হতে চলেছে। কেমন হতে চলেছে সেই সমীকরণ জানতে চোখ রাখুন আমাদের সাইটে।

Comments

  1. যদি প্রকৃত বাঙালি প্রেমি হন বাংলার সার্থে র কথা ভাবেন,তাহলে এই মুহূর্তে মমতা ব্যানার্জির হাত শক্ত করতে সামনের সারির নেতা নেত্রী হিসেবে এগিয়ে আসা উচিত

    ReplyDelete

Post a Comment