হিন্দু পুরোহিতদের টাকা ও বাড়ি দেবে মমতা - একুশের আগে মাস্টারস্ট্রোক মমতার

Mamata Banerjee to participate in Rath Yatras at Kolkata and Mahesh today –  All India Trinamool Congress 

যাঁরা গরিব পুরোহিত, দরিদ্র সনাতনী ব্রাহ্মণ, হয়তো সারা বছর খুব বেশি পুজো পান না, আর্থিক সমস্যায় রয়েছেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখে পুরোহিত ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এরকম ৮০০০ পুরোহিতের তালিকা আমরা পেয়েছি। তাঁদের মাসে হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।” পাশাপাশি, যাঁদের বাড়ি নেই তাঁদের বাংলার আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়া হবে।

এদিন এই ঘোষণা করার আগেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের যাঁরা ইমাম আছেন বা মোয়জ্জেম আছেন, তাঁদের নিয়ে অনেকে বড় বড় কথা বলেন। তাঁদের ওয়াকফ বোর্ড কেন দেবে! আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাঁরা গরিব পুরোহিত, অনেকেই আমাদের কাছে সমস্যার কথা বলেছেন। সে কথা মাথায় রেখে আমরা হাজার টাকা করে মাসে তাঁদের দেব। সেইসঙ্গে যাঁদের বাড়ি নেই, তাঁদের বাড়িও বানিয়ে দেব বাংলা আবাস যোজনায়।”

এছাড়াও মমতা বলেন, “সনাতন ধর্মের অনেকেই একটা অনুরোধ করেছেন তাঁদের জন্য তীর্থস্থান গড়ে দেওয়ার জন্য। আমরা তা গড়ার জন্য কোলাঘাটে জমি চিহ্নিত করেছি।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ হিন্দি দিবস। বাংলা মাতৃভাষা হলেও বাঙালিরা সমস্ত ভাষাকেই সম্মান করেন। কোনও ভাষাকে অবজ্ঞা করা হয় না। তাঁর কথায়, “আমরা ২০১১ সালেই একটি হিন্দি অ্যাকাডেমি গঠন করেছিলাম, আজ হিন্দি অ্যাকাডেমি কমিটিও গঠন করছি। এছাড়া দলিত সাহিত্য অ্যাকাডেমিও গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন প্রাচীন উপজাতির ভাষা ও সংস্কৃতির কথা লেখা যে ৩ হাজার পাণ্ডুলিপি বিষ্ণুপুরের জাদুঘরে আছে, তা ডিজিটাইজ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলার বিভিন্ন প্রাচীন ধর্মস্থানের বা হেরিটেজের ম্যাপিংও করা হবে। ম্যাপিংয়ের পরে সরকার যদি মনে করে, তাহলে কোনও ধর্মস্থানকে হেরিটেজ হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গ্রহণও করতে পারে।

বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরপরই ইমাম ভাতা চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই পদক্ষেপকে সংখ্যালঘু তোষণ বলে সমালোচনা করেছিলেন বিরোধীরা। অনেকের বক্তব্য ছিল, এতে সংখ্যাগুরুর আবেগও আহত হয়েছে।

এ বার পুরোহিত ভাতা যখন শুরু করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী তখন একুশের ভোটের মাত্র ৬ মাস বাকি। তাঁর সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে তাই অনেকেই রাজনীতি ও ভোটের সঙ্গে জুড়ে দেখছেন। তাঁদের মতে, উনিশের ভোটে বাংলায় বিজেপি ১৮টি আসনে জিতেছে। তাতে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণ কতটা তীব্র।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ভোটের পর বলেছেন, ‘টোটালটাই হিন্দু মুসলমান হয়ে গেছে’। হতে পারে এই অবস্থায় হিন্দু তথা সংখ্যাগুরুদের বার্তা দেওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ করলেন তিনি।

Source - The Wall

Comments