দিলীপ ব্যক্তিগত প্রচার করছেন বিজেপিতে! একুশের প্রতিযোগিতার আগেই ভাঙ্গনের মুখে বিজেপি শিবির


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দিলীপ ঘোষকেই লড়িয়ে দিতেই কি নতুন প্রচারাভিযান শুরু করল বিজেপি? নাকি দিলীপ ঘোষ নিজের প্রচারের জন্য বাংলায় নতুন প্রচার কর্মসূচি নিল? সম্প্রতি বিজেপি 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে দিলীপদা' নামে একটি প্রচার কর্মসূচির সূচনা করেছে, সেই প্রচার পরিকল্পনা নিয়েই প্রশ্ন উঠে পড়েছে বিজেপিতে।

বিজেপির নতুন প্রচার অভিযান শুরু হতে না হতেই নয়া বিতর্ক দানা বেঁধেছে। দলের কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন, দিলীপ ঘোষ দলের প্রচারের মাধ্যমে নিজের ইমেজ তৈরির চেষ্টা করছেন। নিতান্তই ব্যক্তিগত প্রচারের জন্য এই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তা না হলে তিনি নিজের নাম নিয়ে এমন প্রচারাভিযান শুরু করবেন কেন?

দলের একজন সহ-সভাপতি বলেন, "দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই দলীয় কর্মসূচি। এটা কোনও ব্যক্তির কর্মসূচি হতে পারে না। এটি একটি পার্টির প্রোগ্রাম। কিন্তু এমনইভাবে বার্তা দেওয়া হয়েছে তাতে মনে হয়েছে- এটা ব্যক্তিগত প্রচার। দিলীপদা পার্টির সভাপতি এবং দলের স্বার্থে দলীয় প্রচার ও কর্মসূচি চালু করার অধিকার তাঁর রয়েছে। তবে এই ঘোষণায় অভিযানটি তাঁর ব্যক্তিগত কর্মসূচিই যেন প্রকট হয়েছে।

বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা অবশ্য জানান, এই কর্মসূচিটি আদতে দিলীপদা-র ব্যক্তিগত কর্মসূচির রূপ নিয়েছে। তবে অবশ্যই এতে দল লাভবান হবে। তিনি বিতর্ক এড়াতেই এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। মোট কথা দিলীপ ঘোষের একার নামে দলীয় কর্মসূচি মানতে নারাজ বঙ্গ বিজেপির নেতারা।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৮টি আসনে জয় লাভ করেছে। এই কৃতিত্ব নিয়ে দিলীপ ঘোষ চাইছেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলের মুখ হয়ে উঠতে। কেননা তার নেতৃত্বেই পঞ্চায়েত ও লোকসভায় বিজেপি তৃণমূলকে চোখে চোখ রেখে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার ক্ষমতা দেখাতে পেরেছে। কিন্তু সম্প্রতি অনেক নাম ভেসে উঠেছে। তাই নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে বঙ্গ বিজেপির মুখ হয়ে ওঠার।

একটি বিশেষ সূত্র দাবি করেছে, বিজেপি যদি তার মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে দিলীপ ঘোষ শীর্ষ পদের জন্য স্বভাবতই দাবিদার। তিনি বিধানসভা নির্বাচনের আগে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু দিলীপ ঘোষের এই সিদ্ধান্ত কিছু দলীয় নেতা ভালোভাবে নেননি।

মুকুল রায় থেকে শুরু করে মুকুল অনুগামী নেতারা, রাহুল সিনহারাও এই ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে। গত সপ্তাহে বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় কলকাতায় এসে বিজেপির অন্তর্কলহ দূর করে মুকুল-দিলীপকে একযোগে কাজ করার বার্তা দিয়েছিলেন। সেইমতো উভয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার বার্তার পরই তাল কাটল নতুন কর্মসূচিকে ঘিরে।

বুধবার বঙ্গ বিজেপি ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে দিলীপদা' প্রচার কার্যক্রমের সূচনা করে। বিজেপির দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলায় এই বৃহত্তর প্রচারের মুখ হিসেবে দিলীপ ঘোষকে তুলে ধরে একপ্রকার স্পষ্ট করে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের মুখ বিজেপি রাজ্য সভাপতিই। তারপরই বিতর্কের সূত্রপাত।

Comments