শোভন চট্টোপাধ্যায় কি অবশেষে তৃণমূলেই ফিরছেন? মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপে অন্তত সেই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। কিছুদিন আগেই তিনি ডাক দিয়েছিলেন বিজেপি ছেড়ে দেল ফেরার, এবার তাঁর ফেরার পথ প্রশস্ত করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। রত্নাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে শোভনের ঘরওয়াপসির পথে যাবতীয় বাধা সরিয়ে দিলেন তিনি।
সম্প্রতি রত্না চট্টোপাধ্যায়কে বেহালা পূর্ব ও ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। তৃণমূলের এই বার্তা আসলে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফেরানোর রাস্তা তৈরি করতেই। তা না হলে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেবে তৃণমূল। জল্পনার পারদ চড়ছে শোভনের ঘরওয়াপসি নিয়েই।
বিজেপিতে নাম লেখানোর পর থেকেই শোভনের ঘরওয়াপসির জল্পনায় রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়েছে একাধিকবার। বিশেষ করে দিদির হাতে ভাইফোঁটা নিতে শোভনের সটান কালিঘাটে চলে যাওয়ার পর তাঁর তৃণমূলে ফেরা স্রেফ সমযের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু আদতে তা ঘটেনি। ফের একবার তাঁর তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা চড়েছে।
শোভনের তৃণমূলে ফেরার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। রত্নাকে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে শোভনের জন্য দুয়ার খুলে দিল তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের ধারণা এমনটাই। এতদিন শোভন আসবে আসবে করেও তৃণমূলে ফিরতে পারেননি, ওই একটা কারণে। এবার তিনি সহজেই যোগ দিতে পারবেন তৃণমূল কংগ্রেসে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একুশে জুলাইয়ের ভার্চুয়াল সমাবেশ থেকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাঁরা মনে করেন ভুল করে বিজেপিতে গিয়েছেন, তাঁরা চাইলে ফিরে আসতে পারেন। তৃণমূলের দরজা তাঁদের জন্য খোলা রয়েছে। তারপর বিপ্লব মিত্র, প্রশান্ত মিত্র, হুমায়ুন কবীরদের মতো অনেকেই ফিরে এসেছেন বিজেপিতে। এবার কি তবে শোভনের পালা?
শোভন বিজেপিতে গিয়েও সক্রিয় হননি রাজনীতিতে। তিনি বিজেপির কোনও কর্মসূচিতেও যাননি, যাননি কোনও দলীয় বৈঠকেও। সম্প্রতি দিল্লিতে বঙ্গ বিজেপির বৈঠকে শোভনকে তলব করা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু শেষপর্যন্ত সেখানেও অংশ নেননি তিনি। তিনি টানা এক বছর থেকে গিয়েছেন অন্তরালেই!
এই সব কারণেই এবার মমতার ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি তৃণমূলে ফিরতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তৃণমূল রত্নাকে সরিয়ে শোভনের জন্য ফেরার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শোভনের ফেরার পথ প্রশস্ত হচ্ছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তা সত্যি হলে, শোভনের ফেরা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা!
আর তা হলে একুশের নির্বাচন ও পুরসভা নির্বাচনের আগে জবরদস্ত ধাক্কা খাবে বিজেপি। দীর্ঘ তিন-চার মাস ধরে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরার হিড়িক পড়েছে। বিজেপিতেও যোগদান হচ্ছে, তার তুলনায় তৃণমূলে ফেরার সংখ্যা বেশি। তাই বিপ্লব মিত্র, প্রশান্ত মিত্র, হুমায়ুন কবীরের পথ ধরে শোভনও ফিরতে পারেন। ফিরতে পারেন বৈশাখীও।
Source - OneIndia

Comments
Post a Comment