আন্দোলনের চাপে বেকায়দায়! দেশ জুড়ে এআরসির ঘোষণা হয়নি, বিজ্ঞাপন দিয়ে জানাল মোদী সরকার

Image result for modi funnyসিএএ বিরোধী আন্দোলন চলছে গোটা দেশে। এরই মধ্যে বেশ কিছু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। হিংসা ছড়িয়েছে কিছু জায়গায়। তবে মানুষ আন্দোলন করছে সর্বত্র। এই রকম অবস্থায় নরেন্দ্র মোদি সরকার সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানাল, সারা দেশে এনআরসি করা নিয়ে এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি। যদি তা হয়ও তাহলে এমনভাবে নিয়মনীতি রাখা হবে যাতে কোনও ভারতীয় নাগরিকের জীবনে তার প্রভাব না পড়ে।’‌

জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ঘিরে বিভ্রান্তি এড়াতে আজ সংবাদপত্রে দেওয়া বিজ্ঞাপনে এ বাক্যই লিখল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিজ্ঞাপনের বক্তব্য হল, যদি কখনও দেশ জুড়ে এনআরসি-র ঘোষণা হয়, তা হলে সেই পরিস্থিতিতে নিয়ম ও নির্দেশিকা এমন ভাবে তৈরি করা হবে যাতে কোনও ভারতীয় নাগরিক অসুবিধায় না পড়েন।
কূটনীতিকদের অনুমান, কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞাপনে ‘‌যদি’‌ শব্দবন্ধের উল্লেখ এটাই ইঙ্গিত করছে যে সারা দেশের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে রীতিমতো চাপে পড়ে গিয়েছে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় বসে থাকা মোদি–শাহ জুটি। বিক্ষোভের চাপে নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহার বা পরিবর্তন করতে পারে কেন্দ্র এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

সদ্য সমাপ্ত অধিবেশনে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিন্তু বিরোধীদের বলেছিলেন, কোনও সংশয় রাখবেন না, এনআরসি গোটা দেশেই হবে। ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে বিজেপি সাংসদেরাও দেশব্যাপী এনআরসি তৈরির দাবিতে সরব হন। আর কেন্দ্রের বিজ্ঞাপনে এনআরসি সম্পর্কে ওই বক্তব্য (যদি কখনও হয়) আসায় সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কে ঠিক? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না কেন্দ্রের বিজ্ঞাপন! দিনের শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জি কিষেণ রেড্ডি মেনে নেন, এনআরসি নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়নি, বিষয়টি কবে হবে কেউ জানে না।
এদিন কেন্দ্রের জারি করা তিন পৃষ্ঠার ফ্যাক্টশিটে প্রশ্নোত্তরের ঢঙে সরকার বিস্তারিতভাবে লিখেছে যে, সিএএ একটা পৃথক আইন এবং এনআরসি ভিন্ন প্রক্রিয়া। সংসদে বিল পাস হওয়ার পর সিএএ সারা দেশেই লাগু হয়েছে। কিন্তু এনআরসি প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়নি। অসম অ্যাকর্ডের নিয়ম মেনে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শুধু অসমেই তা জারি হয়েছে বলে ফ্যাক্টশিটে সাফাই দিয়েছে কেন্দ্র। সরকার আরও লিখেছে, শুধু ভারতীয় মুসলিম নয়, কোনও ভারতীয় নাগরিকেরই সিএএ বা এনআরসি নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কোনও বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নয়, এনআরসি যদি হয় তাহলে তা দেশের সব ধর্মের জন্যই লাগু হবে।
উল্লেখ্য, সংসদে দিনক্ষণ না বললেও, অমিত শাহ মাসের শুরুতে ঝাড়খণ্ডের রাঁচীতে নির্বাচনী প্রচারে দাবি করেছিলেন, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগেই দেশে এনআরসি তৈরি করে ফেলা হবে। চিহ্নিত করা হবে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে। তার পর আজকের বিজ্ঞাপন ও মন্ত্রকের ছোট মন্ত্রীর শাহের বক্তব্য খণ্ডনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শাসক শিবিরের একাংশের মতেই, দেশব্যাপী ওই বিক্ষোভে বেশ বেকায়দায় সরকার। আমজনতার মধ্যে বিশেষ করে মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দুদের মধ্যেও এনআরসি এবং সিএএ ঘিরে যে উদ্বেগ এবং প্রতিবাদ ছড়িয়েছে, তাতে অশনি সঙ্কেত দেখছে দল। হিন্দু ভোটের মেরুকরণ করতে গিয়ে উল্টো দল বিপাকে বলেই মত বিজেপির নেতাদের। তাই আজ বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশবাসীকে ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষেণ রেড্ডিও বলেন, ‘‘এনআরসি নিয়ে আইন মন্ত্রক বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কোনও আলোচনা হয়নি। এর কোনও খসড়া তৈরি হয়নি। আমি জানাতে চাই, এনআরসি দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সময় লাগবে। বিজ্ঞাপনেও সেই কথা বলা হয়েছে। এনআরসি করে সরকার মুসলিমদের ভারত থেকে তাড়াতে চাইছে বলে কিছু দল প্রচার চালাচ্ছে।’’ কিন্তু অমিত যে বলেছিলেন, দেশ জুড়ে ২০২৪ সালের মধ্যে এনআরসি হবে? জবাবে মুখ খুলতে চাননি কোনও স্বরাষ্ট্রকর্তাই। রেড্ডি বলেন, ‘‘আনা হবে বলা হয়েছিল। কবে আনা হবে তার দিনক্ষণ নেই।’’
অনেকে বলছেন, সরকারের কাছেই তথ্য আছে কে নাগরিক আর কে নাগরিক নয় তার। এনআরসির যে প্রক্রিয়া তা সম্পন্ন করতে বিশাল অঙ্কের টাকা প্রয়োজন। বিপুল কর্মীকে এই কাজে লাগাতে হবে। তারপর নাম বাদ গেলে শুনানি, মামলা অনেক কিছু হবে। অসমের ঘটনার পর দেশ আতঙ্কিত। তাই এনআরসি না করে সরকার যদি জাতীয় নাগরিক পরিচয়পত্র একান্ত দিতেই চায় তাহলে ভোটার কার্ড, আধার,রেশন বা কোনও কাগজ দেখে দিয়ে দিক।

Comments

Post a Comment