“মমতা নন্দীগ্রামে না এলে আজ বেঁচে থাকতাম না”

২০০৭ সালের ১৪ মার্চ। অভিশপ্ত সেই দিন। ঘটনার ভয়াবহতায় স্তম্ভিত হয়েছিল রাজ্য তথা দেশ। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ১১ বছর। কেমন আছে নন্দীগ্রাম? শান্তি বিরাজ করছে না কি এখনও ভয়াবহতা গ্রাস করে রয়েছে নন্দীগ্রামবাসীকে? উন্নয়নের হালহকিকতই বা কী? সবকিছু নিয়েই এই প্রতিবেদন-


নন্দীগ্রামের ২০০৭ সালের ঘটনা সকলের প্রায় কমবেশি জানা। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ১৪ জন বাসিন্দার। মৃত্যুর সংখ্যা এত কম নয়, প্রায় ৫০ ছাড়িয়েছে। অভিযোগ করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। এখনও পর্যন্ত ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ।

১৪ মার্চ ২০০৭ এ মৃতদের ছবি
গিয়ে পৌঁছালাম সোনাচূড়ার তেখালি ব্রিজ। একসময় সেখানকার মাটি ভিজেছিল রক্তে। ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছুটে এসেছিল একপাড় থেকে অন্যপাড়ে। শুধু রাত নয়, দিনের সর্বক্ষণই থাকত অশান্তির আঁচ। কিন্তু এখন ফিরেছে শান্তি। বলছেন স্থানীয়রা। ১১ বছর পর ১৪ মার্চের আগের বিকেলে ব্রিজ সংলগ্ন একটি মাঠে চলছে ফুটবল ম্যাচ। পছন্দের জার্সি পরে পায়ের জাদু দেখাচ্ছে এলাকার ছেলেরা। একটু এগোতেই দেখলাম রাস্তার পাশে বসে পুতুল খেলছে একরত্তি শিশু আর তার পাশে বসে কানের কাছে রেডিও রেখে গান শুনছেন ষাটোর্দ্ধ এক ব্যক্তি। পরিস্থিতি কেমন আঁচ করা গেল কিছুটা। কথা বললাম এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে। এককথায় সবাই বললেন, ভালো আছি। অনেক সুখে আছি।   

 
১৪ মার্চ পালনের মঞ্চ
স্বরূপ ভট্টাচার্য, স্থানীয় এলাকায় একচিলতে একটি দোকান চালান। দোকান বললে একটু ভুল বলা হবে, গুমটি চালান। তিনি বলেন, “বামফ্রন্টের আমল থেকে এখন অনেক উন্নত। রাস্তা তৈরি, পুকুর খনন সহ একাধিক কাজ হয়েছে।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না এলে আমাদের আর খুঁজে পাওয়া যেত না।” ১৪ মার্চের কিছু স্মৃতি মনে রয়েছে আপনার? জানতে চেয়েছিলাম আমরা। ওরে বাবা! বলেই প্রণাম ঠোকেন তিনি। তবে আক্ষেপও রয়েছে। বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক কিছু সুবিধা চালু করলেও আমরা সেগুলি পাচ্ছি না।” প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও চালও পাচ্ছেনা না তিনি। শুধু স্বরূপবাবু নন, তাঁর মতো অনেকেই পাচ্ছেন না সরকারি সুযোগ-সুবিধা।
   
প্রবীলা দাস নামে আরও এক গ্রামবাসী বলেন, “আগের আতঙ্ক এখন আর নেই। বেশ ভালো আছি।”

তেখালি ব্রিজ
দাবিদাওয়া মিটেছে। শান্ত হয়েছে নন্দীগ্রাম। কিন্তু তাতেও যেন শান্তি নেই নারায়ণ দাসের পরিবারের। ১৪ মার্চের ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ তিনি। তাঁর ফেরার আশায় এখনও প্রহর গুনছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে নারায়ণবাবুর পুত্রবধূ জানালেন, “উনি কী আর বেঁচে আছেন!” নারায়ণবাবুর মতো অবস্থা গ্রামের আরও ৮টি পরিবারের। যাদের পরিবারের কেউ না কেউ নিখোঁজ আজও।

Source - Eenadu Bangla 

Comments