২৬শে মার্চ থেকে মমতা দিদির ৩দিন দিল্লি সফরে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে দেখা করার সময় চাইলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও বিজেপি বিরোধী অনেক বিশিষ্ঠ নেতৃবন্দ।




আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর সময় চেয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। সোমবার তিনদিনের দিল্লি সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। কংগ্রেস সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি আসছেন শুনেই টেলিফোনে তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাহুল গান্ধীর দেখা করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধে পর্যন্ত সাক্ষাতের সময় জানতে পারেনি রাহুলের দপ্তর। তৃণমূল সূত্রের খবর, শুধু রাহুলই নন, মমতা দিল্লি আসছেন শুনে আরও অনেক নেতা তাঁর সাক্ষাত্প্রার্থী। কাউকেই এখনও সময় নির্দিষ্ট করেননি মমতা।
মঙ্গলবার এ প্রসঙ্গে এআইসিসি-র এক সদস্য বললেন, 'বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কারও অজানা নয়। ফলে, মমতা দিল্লি আসবেন আর তাঁর সঙ্গে রাহুলের দেখা হবে না, এটা হতেই পারে না। মমতা নিশ্চয় সময় দেবেন। কিন্তু কবে, কোথায় দেখা হবে, তা এখনও জানা নেই।' ওই নেতার বিশ্বাস, সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে নিজেই দেখা করবেন মমতা। সেজন্য সংসদের সেন্ট্রাল হল সবচেয়ে ভাল জায়গা। ২৬ মার্চ সন্ধেয় দিল্লি পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী। ফিরবেন ২৯ মার্চ। এর মধ্যে ২৭ তারিখ এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ারের আমন্ত্রণে নৈশভোজে যাবেন। সব ক'টি বিরোধী দলকে নৈশভোজে ডেকেছেন পাওয়ার। সেখানে অনেকের সঙ্গেই মমতার দেখা হবে। এবারও সংসদ ভবনে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেন্ট্রাল হলে সময় কাটাবেন। সেখানেও নানা দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা হবে। যাবেন সংসদে তৃণমূলের কার্যালয়েও। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্ হওয়ার কথা রয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
এদিকে, নিজেদের রাজ্যে শক্তিশালী এমন বেশ কয়েকটি দল কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে নারাজ। অন্তত নির্বাচনের আগে তো নয়ই। কয়েকটি দলের আবার রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে আপত্তি। সেক্ষেত্রে সম্ভাব্য যুক্তফ্রন্টের পাল্লা ভারী হতে পারে। উত্তরপ্রদেশে দুই পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী সপা ও বসপা-র জোট প্রায় নিশ্চিত। কংগ্রেস প্রায় নিশ্চিহ্ন। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ছাড়া অন্যান্য রাজ্যে কংগ্রেসের ভাল ফল করার সম্ভাবনা কম। এমন রাজনৈতিক আবহে তৃতীয় ফ্রন্ট বা যুক্তফ্রন্ট গড়ার তাগিদে একের পর এক নেতা মমতার পরামর্শ চাইতে শুরু করেছেন, যা রাহুল-সোনিয়াদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। সম্ভবত সে কারণেই এবার মমতার সঙ্গে দেখা করে ইউপিএ-৩ গড়ার রাস্তা প্রস্তুত করতে চাইছেন রাহুল।
কিছু দিন আগেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে উত্খাত করতে সমমনস্ক অ-বিজেপি দলগুলিকে একজোট হয়ে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। টেলিফোনে কথা বলেছেন বিভিন্ন নেতার সঙ্গে। গতকাল নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি দলের প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাও, কেশব রাও ও মুখ্যমন্ত্রীর সাংসদ কন্যা কে কবিতা। মমতার সঙ্গে কথা বলেছেন সদ্য এনডিএ ছেড়ে আসা চন্দ্রবাবু নাইডুও। তার ক'দিন আগেই মমতাকে ফোন করেছিলেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনও মমতার পরামর্শ নিচ্ছেন। ২০১৪-র পর থেকেই কেন্দ্রে অ-বিজেপি জোট গড়ার পক্ষে সওয়াল করে আসছেন মমতা। আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, গুজরাটের পাতিদার নেতা হার্দিক প্যাটেল, জিগনেশ মেবানিদের মতো নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। ভবিষ্যতে কেন্দ্রে অ-বিজেপি জোট হলে তাতে থাকার সম্ভাবনা সপা, বসপা, এনসিপি, আরজেডি, মজলিশ-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিম-সহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলির। সমর্থন না-করার বিশেষ কোনও কারণ নেই বাম দলগুলিরও।
Source .. আজকাল

Comments

Post a Comment