'সেভ গ্রিন সি ড্রিম' স্লোগানকে সামনে রেখে বাঁকুড়ায় 'বনবান্ধব' উত্‍সব

'সেভ গ্রিন সি ড্রিম' স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার সিমলাপাল মদনমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষ বনবান্ধব উত্‍সব অনুষ্ঠিত হল সাদা পায়রা উড়িয়ে রাজ্য বনদফতরের উদ্যোগে সারাদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মুখ্য বনপাল সুরেন্দ্র যাদব ও জেলা সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী। এছাড়াও বনসুরক্ষা কমিটির সদস্য, এলাকার সাধারণ মানুষ ও বনদফতরের কর্মীদের নিয়ে ট্যাবলো সহ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সিমলাপাল বাজার পরিক্রমা করে।

মুখ্য বনপাল সুরেন্দ্র যাদব এদিন বলেন, বনকে ভালোবাসতে শিখুন। বন্যপ্রাণকে ভালোবাসতে শিখুন। বন ও বন্যপ্রাণ ভালো না থাকলে আমরাও ভালো থাকতে পারবনা। প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি এই বনকে রক্ষা করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে এদিন সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গলে আগুন লাগানোর ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে। জঙ্গলে আগুন লাগানোর বিরোধিতা করে তিনি এবিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বেশি বেশি সচেতনতাবোধ গড়ে তোলার উপর জোর দেন।

১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বনদফতর যৌথ বন পরিচালন ব্যবস্থা শুরু হয়। তারপর গড়ে ওঠে একের পর এক 'বন সুরক্ষা কমিটি'। এদিন এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বাঁকুড়া উত্তর, দক্ষিণ ও পাঞ্চেত ডিভিশনের ২০ টি বনসুরক্ষা কমিটির হাতে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের চেক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বন সুরক্ষার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ২৭ জনকে 'বনবান্ধব' পুরস্কার ও ৫ জন নবজাতকের পরিবারের হাতে 'সবুজশ্রী' প্রকল্পে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

'বনবান্ধব উত্‍সব উপলক্ষ্যে' এদিন মত্‍স্য, প্রাণী সম্পদ বিকাশ, কণ্যাশ্রী, বনদফতর, স্বনির্ভর গোষ্ঠী মিলিয়ে মোট ১৬ টি স্টল ছিল। সেখানে সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা সদস্যারা তাদের উত্‍পাদিত দ্রব্যের বিপননের ব্যবস্থা করেন। উপস্থিত অতিথিরা এদিন ওই সমস্ত স্টল ঘুরে দেখেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্য বনপাল (কেন্দ্রীয় চক্র) সুরেন্দ্র প্রসাদ যাদব, সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা আরক্ষাধ্যক্ষ সুখেন্দু হীরা, শাসক দলের বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও বনবিভাগের কর্মী আধিকারিকরা।

source - Kolkata 24x7

Comments