রুপকথার গল্প নয় - বাস্তব। প্রকল্প - ভাল "বাসা"। স্থান - বীরভূমের রামপুরহাট। বস্তীবাসীদের গৃহ তৈরি করে দিল মা মাটি মানুষের সরকার। সৌজন্যে মমতাময়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

FAM4TMC
এ যেন রূপকথার গল্প। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় প্রজাদের দুর্দশা দেখে উজাড় করে দিতেন রাজা মহারাজারা। রূপকথার গল্প কিংবা সেলুলয়েড নয়। এই রাজ্যে এটাই এখন বাস্তব। সৌজন্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্বপ্ন। ২০১৩ সালের ঘটনা ৷ বীরভূমের রামপুরহাটে একটি জনসভায় যাচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বস্তিবাসীদের দুর্দশা দেখে তাঁদের জন্য পাকা ঘর তৈরির নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যেই ৭০ জনকে ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি তুলে দিয়েছে পুরসভা। মাথার উপর ভরসার ছাদ পেয়ে আনন্দ ধরছে না বস্তিবাসীদের।
ধোঁয়া ওঠা মাটির উনুনে রান্না। গনগনে আঁচে চোখ জ্বালা। ঘেমে নেয়ে একাকার। কিম্বা মাথার উপর বেড়ার ফুটো ছাদ। বর্ষাকালে দুর্দশার অন্ত নেই। সেসবের ঝক্কি অবশ্য ঘুচেছে। এখন দু’পা হাঁটলেই আকাশ ছোঁয়া ফ্ল্যাট। তাও আবার নিজের। টয়লেট, স্নানের শাওয়ার, সবটাই নিজের। যেন স্বপ্নের মত।

২০১৩ সালের কথা। ছবিটা একটু অন্যরকম ছিল। বীরভূমের রামপুরহাটের ধূলাডাঙা রোডের বস্তিতে বেড়ার অস্থায়ী ভাঙা-বাড়িতে দুর্দশায় কাটছিল দিন।
একদিন ওই রাস্তা দিয়েই জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ি থেকে নেমে মন দিয়ে অভাব-অভিযোগ শুনেছিলেন তিনি। প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। তারপর থেকেই শুরু কাজ। ২০১৫ সালে ফের এই বিষয়েই প্রশাসনিক আধিকারিকদের দেখতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঞ্চ থেকে নিজেদের নাম শুনতেই খুশি যেন বাঁধ মানছিল না ফ্ল্যাটবাসীদের। প্রথম ধাপে ৭০ জনের হাতে ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি তুলে দিলেন রামপুরহাটের বিধায়ক ও রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন চেয়ারম্যান অশ্বিনী তিওয়ারিও।
‘মমতার’ ঘরে
------------------
- প্রকল্পে বরাদ্দ ১১ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা
- মোট ১৭টি অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি হবে
- অ্যাপার্টমেন্টের ১৬টি পরিবারের জন্য ১৬িট ফ্ল্যাট
- প্রতি ফ্ল্যাটে দু’টি কামরা, একটি টয়লেট ও একটি রান্নাঘর
- তৈরি হয়ে গিয়েছে ৭ অ্যাপার্টমেন্ট
- থাকতে পারবে ১১২টি পরিবার
- ২টি অ্যাপার্টমেন্টের কাজ প্রায় শেষ
- মোট ২৭২টি পরিবার ফ্ল্যাট পাবে
নতুন ঘর। নতুন সিঁড়ি। এ বাড়ির ইট-কাঠ-সিমেন্ট-পাথর সবই নিজের। ঘুরেফিরে দেখা যেন শেষই হয় না। ছুঁয়ে দেখেও আশ যেন মেটে না।
পশ্চিমবঙ্গে গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ প্রকল্পে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই প্রথম ফ্ল্যাট পেলেন বস্তিবাসীরা। পাকা ছাদের তলায় শান্তির একটা আশ্রয়। এবার ভাল বাসায় ভালবেসে থাকার পালা।

Comments