এবার ভেষজ আবিরে থাকছে কন্যাশ্রীদের ছোঁয়া। জঙ্গলমহলের ভূমিকন্যাদের হাতে তৈরি আবির এল বাজারে। পলাশ, গাঁদা, গোলাপ, অপরাজিতা ফুলের মিশেলে 'বনপলাশি' আবিরেই দোলে রাঙা হবে বাংলা। বিশ্ব বাংলা ব্র্যান্ডে তা বিক্রিও হচ্ছে বাজারমূল্যের থেকে অনেক সস্তায়। বিশ্ব বাংলার বিপণি, মঞ্জুশ্রীর মতো একাধিক সরকারি স্টল এমনকী ঝাড়খণ্ডের শপিং মলেও বিক্রি হচ্ছে বাংলার কন্যাশ্রীদের হাতে তৈরি প্যাকেটজাত সুগন্ধী এই 'বনপলাশি' আবির।
বিশেষ এই আবির পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন থেকে পাঠানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়েও।
কন্যাশ্রীদের তৈরি এই ভেষজ আবির কেবল নামে নয়, পরতে পরতে রয়েছে জঙ্গলমহলের মাটির গন্ধ। যেখানে এক ফোঁটা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। ফলে একেবারেই পরিবেশবান্ধব এই 'বনপলাশি'। গত রবিবার পুরুলিয়ার বলরামপুরে কন্যাশ্রী স্বাবলম্বী নামে জেলা প্রশাসনের পাইলট প্রকল্পের অন্তর্গত 'পলাশকন্যা' নামে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। যার সূচনা করেন পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। শিশু বিকাশ নারী ও সমাজ কল্যাণ দপ্তর এবং পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের অর্থে এই পলাশকন্যা কর্মসূচি নিয়েছে বলরামপুর ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সমিতি। বলরামপুরের বিডিও পৌষালি চক্রবর্তী বলেন, "গত দু'বছর আমরা এই ভেষজ আবির স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের দিয়ে তৈরি করে বাজারে এনেছিলাম। এবারও গোষ্ঠী কাজ করছে। তবে সেই সঙ্গে 'পলাশকন্যা' নামে কর্মসূচিতে আমরা কন্যাশ্রীদের এনে এই কাজ করছি। তাদের স্বনির্ভর বা স্বাবলম্বী করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। ইতিমধ্যে কন্যাশ্রীদের হাতে তৈরি আবির বিশ্ব বাংলা ব্র্যান্ডের বিপণিতে চলে গিয়েছে।" প্যাকেটবন্দি আবির থেকে যে লাভ আসবে তা কন্যাশ্রীদের মধ্যেই ভাগ করে দেওয়া হবে।
বলরামপুর ব্লকের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে বাছাই করা মোট ৫০জন কন্যাশ্রীকে নিয়ে এই কাজ শুরু হয়। পরবর্তীকালে এই উদ্যোগ ব্লকের সমস্ত কন্যাশ্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই 'বনপলাশি'-র হাজার কুইন্ট্যাল বরাত পেয়েছে কন্যাশ্রীরা। তাদের কথায়, "এমন কাজ করতে ভীষণ ভাল লাগছে। হাতে টাকাও আসছে।" স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের কাছেই তারা এই কাজ শিখছে। বিভিন্ন সরকারি বিপণি বা শপিং মল গোলাপ ও অপরাজিতা থেকে তৈরি আবির কেজি প্রতি হাজার টাকায় কিনছে। এছাড়া পলাশ, গাঁদা, নিম, বিট থেকে তৈরি আবিরের দাম রাখা হয়েছে কেজি প্রতি সাড়ে সাতশো টাকা।Source - সংবাদ প্রতিদিন

Comments
Post a Comment