বর্ধমানে বিরোধীদের হাতে থাকা একমাত্র পুরসভা দখল করে নিল তৃণমূল কংগ্রেস।

FAM4TMC
 রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে একের পর এক পুরসভার দখল নিয়েছে তৃণমূল৷ এবার সেই তালিকায় নয়া সংযোজন বর্ধমানের দাঁইহাট পুরসভা৷ সোমবার সিপিএম পরিচালিত এই পুরসভার দখল নিল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস৷ এদিন পুরসভার আস্থা ভোট ছিল৷ সেখানে অপসারিত হলেন দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান বিদ্যুৎবরণ ভক্ত৷ তিনি এতদিন পর্যন্ত সিপিএম পরিচালিত পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন৷ এর ফলে বর্ধমান জেলায় বিরোধীদের হাতে থাকা একমাত্র দাঁইহাট পুরসভাটিও ছিনিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস৷
উল্লেখ্য, ১৪ আসনের দাঁইহাট পুরসভার ৯ জন বাম কাউন্সিলর ছিলেন৷ গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁদের মধ্যে ৫জন দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগদান করেন৷ রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের হাত থেকে সেদিনই তাঁরা তৃণমূলের ঝাণ্ডা হাতে তুলে নেন৷ তখনই সংখ্যালঘু হয়ে যায় সিপিএম পরিচালিত এই পুরসভা৷ অনাস্থা প্রস্তাব আনে তৃণমূল কংগ্রেস৷ সোমবার ছিল উপপুরপ্রধানের ডাকা বিশেষ বৈঠক৷ সেখানে ভোটাভুটিতে ১০ কাউন্সিলরের ভোট চেয়ারম্যানের বিপক্ষে যায়৷ একইসঙ্গে পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেস৷ মনে করা হচ্ছে বিজেপির একমাত্র কাউন্সিলরের ভোটটিও পড়েছে তৃণমূলে৷ এবং যদি সেটা হয়, তাহলে কিন্তু রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ৷

২০১৫ সালে গোটা রাজ্য জুড়ে পুরনির্বাচনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সিংহভাগ পুরসভা দখল করে৷ অল্প কয়েকটি পুরসভা বিরোধীদের দখলে থাকে৷ তার মধ্যে দাঁইহাট পুরসভা অন্যতম৷ সেই সময় এই পুরসভার ১৪টি আসনের মধ্যে সিপিএম জিতেছিল ৯টি আসনে৷ তৃণমূল কংগ্রেস ৪টি এবং বিজেপি ১টি আসনে জিতেছিল৷ দলত্যাগী কাউন্সিলরদের মধ্যে আছেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলর গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ৭ নম্বরে সুজাতা বিশ্বাস, ১১ নম্বরে মামণি মাজি, ১৩ নম্বরে ধনঞ্জয় মণ্ডল৷ আরও একজন পরে যোগ দেন৷

ঘটনায় জেলা সিপিএম তৃণমূলের দিকে দল ভাঙানোর অভিযোগ এনেছে৷ তাদের অভিযোগ, তৃণমূল গত কয়েক বছর ধরেই এই দল ভাঙানোর কাজ করে চলেছে৷ তবে জেলা তৃণমূল বিরোধীদের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা জানিয়েছে, এই পাঁচ বাম কাউন্সিলর স্বেচ্ছায় তাদের দলে যোগদান করেছে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের জোয়ারে সামিল হতেই তাঁদের এই দলত্যাগের সিদ্ধান্ত৷

Comments