ঘরে বসে থাকা চলবে না। কোনও কাজ ফেলে রাখা যাবে না। ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক বৈঠকে এভাবেই সতর্ক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

ঘরে বসে থাকা চলবে না। কোনও কাজ ফেলে রাখা যাবে না। মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। আমার কিন্তু চোখ–কান খোলা আছে। শুক্রবার ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক বৈঠকে এভাবেই সতর্ক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
প্রশাসনিক কর্তা থেকে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমার হাতে ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি করব, এটা বরদাস্ত করব না। ডাকলে যাব, না ডাকলে যাব না, এটা যেন না হয়‌।’‌
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জেলার বিভিন্ন কাজের পর্যালোচনা করেন। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে খোঁজ নেন। প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। নয়াগ্রামের ভসরাঘাট এবং জঙ্গলকন্যা সেতুর কাছ থেকে বেআইনিভাবে নদীর বালি তোলার অভিযোগ ওঠায় সতর্ক করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌সেতুর নিচ থেকে বা বিদ্যুতের টাওয়ারের কাছ থেকে মাটি কাটা যাবে না। মাটি কেটে নিলে সেতু বা টাওয়ার দুর্বল হয়ে যাবে। এটা চলতে পারে না।’‌
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, যদি কেউ এ ধরনের কাজ করে, তা হলে পুলিস প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে জানিয়ে দেন, নতুন পাঁচ জেলার যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে।
ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর, বেলপাহাড়ি ও সদর ঝাড়গ্রামকে মহকুমা করে পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
ঝাড়গ্রাম জেলার বাঁশপাহাড়ি ও মানিকপাড়ায় নতুন থানা তৈরির নির্দেশ দেন।
এদিন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সচিবের কাছে খোঁজ নেন তিনি। উন্নয়নে বরাদ্দ টাকা ঠিকঠাক খরচ হচ্ছে কি না, তা–ও জানতে চান। পানীয় জল সরবরাহ, রাস্তা তৈরি এবং সংস্কৃতি চর্চার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন বাগমুন্ডিতে একটি ছৌ আকাদেমি, ঝাড়গ্রাম শহরে সাঁওতালি আকাদেমির একটি শাখা, হাজার–বারোশো দর্শক আসনের একটি আদিবাসী ভবন তৈরির। আদিবাসী ভবন তৈরি হলে প্রশাসনিক সমন্বয় সভারও জায়গা পাওয়া যাবে। বাঁশপাহাড়ি থেকে ঝিলিমিলি পর্যন্ত ট্যুরিজম সার্কিট ও নতুন কটেজ করার কথা বলেন।
তিনি বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বংশীবদন মাহাতোর কাছে জানতে চান, ‘‌মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না কেন? জেলাশাসককে বলে যাচ্ছি সব পরিষেবা আরও দ্রুত দেওয়ার জন্য।’‌ ঝাড়গ্রাম থেকে বেলপাহাড়ি, মেদিনীপুর ও কলকাতা রুটের সরকারি বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Comments