২৯৪ আসনের বিধানসভার প্রায় ২২০টি রয়েছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। রাজ্যের সকল জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েতগুলিতেও জ্বলজ্বল করছে ঘাস ফুল। তবুও রাজ্যে বিরোধীদের হারাতে বদ্ধ পরিকর তৃণমূল কংগ্রেস। কর্মী সম্মেলনে এমনই বার্তা দিলেন দলের দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবারে দলীয় কর্মীদের নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করেছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার সিরসি মাদ্রাসা ময়দানের এই অনুষ্ঠানের প্রধান মুখ ছিলেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী তথা দলের উত্তর দিনাজপুর জেলার পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী।
এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব, রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী গোলাম রব্বানী, বিধায়ক হামিদুল রহমান, কানাইয়ালাল আগরয়ালা, মনোদেব সিনহা, অমল আচার্য, জেলা পরিষদের সভাধিপতি আলাম নুরী সহ অন্যান্যরা।
২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের ভরা জোয়ারেও চাকুলিয়াতে ফোটেনি ঘাস ফুল। জিতেছিলেন বাম প্রার্থী ফরওয়ার্ড ব্লকের আলি ইমরান। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী আসীম কুমার মৃধা। এই অবস্থায় চাকুলিয়াতে ঘাস ফুল ফোটেতে মরিয়া শাসক শিবির। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে চাকুলিয়ার বিধায়ককে এখান থেকে এখনই উৎখাত করতে হবে। কর্মীদের কাছে এই বার্তাই দিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন সভায় গৌতম দেব বললেন, ‘আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সফল করার জন্য শুধুমাত্র মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনগুলি বাদ দিয়ে বাকি দিনগুলিতে দল যে কোনও জায়গায় ডাকলে সেখানেই চলে যাব। তিনি আরও বললেন, শহর ছেড়ে বরং গ্রামে গ্রামে দলের কর্মীদের বাড়ি থেকে সভা করব।’
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী গোলাম রব্বানী বললেন, ‘বাম বিধায়কের এলাকায় তার বাবা এবং কাকা জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রী থাকাকালীন কোনও কাজ করা হয়নি। এমনকি পরিবার তন্ত্রের সেই পথেই হাঁটছেন বর্তমান বিধায়ক। চাকুলিয়ার পাশে গোয়ালপোখর ও ইসলামপুরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা সচক্ষে দেখছে এলাকাবাসীরা। আর তাই এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত।’
আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে গ্রাম পঞ্চায়েত,পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ বিরোধী শূন্য করার লক্ষ্যে এই পঞ্চায়েতি রাজ জেলা বুথ ভিত্তিক কর্মী সম্মেলন। এদিন শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ‘রাজ্যে সিপিএম নেই, কংগ্রেস নিশ্চিহ্ন। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরীর নাম না করেই তিনি বলেন সকালে সিপিএম, রাতে বিজেপির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। চাকুলিয়ার বিধায়ক নিজের এলাকাতে কোনও কাজ করতে পারেনি তিনি। তাই বিজেপির মতন আরেকটা ধর্মের রাজনীতি করেন। কিন্তু লোক এখন বুঝে গেছেন যে ধর্মের রাজনীতি চলবে না।’
Source- Kolkata24*7
Comments
Post a Comment