"ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, বাংলায় শন্তি আছে ও থাকবে"- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

"ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, বাংলায় শন্তি আছে, থাকবেই"

কালীপুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিলেন। বুধবার থেকেই তিনি উদ্বোধন শুরু করেছেন। এদিন প্রথমে যান উত্তর কলকাতার সঞ্জয় বক্সি, মধ্য কলকাতার স্বর্ণকমল সাহা ও প্রয়াত রাজীব দেবের পুজোয়। উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, বাংলায় শান্তি আছে, শান্তি থাকবে। এখানে কুৎসা, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত করে শান্তি বিঘ্নিত করা যাবে না। এই বাংলাতেই সব ধরনের মানুষ একসঙ্গে থাকেন। আমার দেখতে ভাল লাগে। আমরা কোনও ভেদাভেদ করি না। যাঁর যাঁর ধর্ম তাঁরা স্বাধীনভাবে পালন করেন। বি জে পি–‌কে খোঁচা দিয়ে মমতা বলেন, কে কী খাবেন, কে কী পরবেন তা অন্যরা ঠিক করে দেওয়ার কে?‌ কেউ নিরামিষ খান, কেউ আমিষ খান। আমি আমার পছন্দমতো খাবার খাব। কারও নির্দেশ মানা হবে না। মমতা বলেন, হিন্দু ধর্ম ছোট নয়। কারও একার নয়। ছোট কাঁটাতার দিয়ে হিন্দু ধর্মকে বেঁধে রাখা যায় না। এর বিস্তার চারিদিকে। মমতা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দীপাবলি উৎসব পালন করুন। সকলকে নিয়েই বাংলায় বেঁচে থাকা, এটাই এখানকার পরম্পরা। বাংলা হচ্ছে সব ধর্মের মিলনের স্থান। যাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই বাংলায় রয়েছেন, তাঁদের সকলকে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বারবারই তিনি বলেছেন, আমরা ভেদাভেদের বিরুদ্ধে। উৎসবে সকলেই অংশ নিতে পারছেন। এটাই আমার ভাল লাগছে। বাংলাকে বিশ্বসেরা করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কোনও মানুষ ধর্ম তৈরি করতে পারে না। উত্তর কলকাতার ফাইভ স্টার আয়োজিত ৬–‌এর পল্লীর পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন সুদীপ ব্যানার্জি, শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, স্মিতা বক্সি, মালা সাহা, মালা রায়, সঞ্জয় বক্সি, সৌম্য বক্সি প্রমুখ। উত্তর ও মধ্য কলকাতার কাউন্সিলরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বপ্না দাস, অপরাজিতা দাশগুপ্ত, সোমা চৌধুরি, রত্না শূর–‌সহ অনেকেই। জানবাজারে উপস্থিত ছিলেন সুদীপ ব্যানার্জি, স্বর্ণকমল সাহা ও তাঁর ছেলে কাউন্সিলর সন্দীপন সাহা। এখানেও মমতা বলেন, পুজোর দিন আনন্দ করতে গিয়ে যাতে অন্যের নিরানন্দ না হয়। এদিন সন্ধ্যায় মমতা যান শেক্সপিয়র সরণিতে রাজীব দেবের পুজোয়। তিনি বলেন, এই পুজো রাজীবদা করতেন। তিনি যখন ছিলেন, তখনও আসতাম। মঞ্চে ছিলেন দিলীপ মহারাজ। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন মমতা। এ ছাড়া ছিলেন মেয়র শোভন চ্যাটার্জি, ইন্দ্রনীল সেন, বৈশালী ডালমিয়া, সুস্মিতা ভট্টাচার্য, বাবলু পাইন প্রমুখ। একদিনেই পুজো উদ্বোধন শেষ করে দেন মমতা। উদ্বোধনের পর তিনি যান বেলভিউ হাসপাতালে অভিষেক ব্যানার্জিকে দেখতে। এ মাসেই তাঁর ঝাড়গ্রাম যাওয়ার কথা ছিল। সফর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নভেম্বরে প্রথম সপ্তাহে তিনি ঝাড়গ্রাম যাবেন। এদিন নবান্নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি। শনিবার কালীপুজো। সেই উপলক্ষে সোমবারও সরকারি অফিস ছুটি দেওয়া হয়েছে। কালীঘাটে নিজের বাড়িতেও মুখ্যমন্ত্রীর পুজো আছে। তারও প্রস্তুতি চলছে।‌ এদিকে, আজ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবেদন জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিকেল ৩টেয় বিধান ভবন থেকে এই মিছিল যাবে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেল পর্যন্ত। নেতৃত্বে থাকবেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি–সহ রাজ্য নেতারা। ওয়াই চ্যানেলে অধীর বক্তব্য পেশ করবেন। বলা হয়েছে, দুপুর আড়াইটের মধ্যে বিধান ভবনের সামনে হাজির হতে।

#Fam #fam4tmc

Comments