Mamata Banerjee
#FAM #FAM4TMC
রীতিমতো নজিরবিহীনভাবে মধ্যরাতে নবান্ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মার্কিন শিল্পপতিদের এ রাজ্যে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হল। সোমবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে সওয়া ১টা পযর্ন্ত নবান্নের ১৩ তলার কনফারেন্স রুম থেকে ওই ভিডিও কনফারেন্স করেন অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র। অপরদিকে নিউইয়র্কের মিডটাউনের মার্কিন ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের বোর্ড রুমে ছিলেন প্রায় ৫০ জন শিল্পপতি ও শিল্পসংস্থার কর্ণধার। সেই তালিকায় গ্লোবাল মাস্টার কার্ডের চেয়ারম্যান অজয় বাঙ্গা, ফ্র্যাঙ্ক উইজনারসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিতি ছিলেন। রাজ্য সরকার তথা এদেশের প্রতিনিধি হিসাবে নিউইয়র্কে ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও ব্রায়েন এবং নিউইয়র্কে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত। রাজ্য সরকারের তরফে অমিত মিত্র ছাড়াও শিল্পদপ্তরের প্রধান সচিব এসএম কৃষ্ণা এবং ডব্লুবিআইডিসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুরেন্দ্র গুপ্তা উপস্থিত ছিলেন। নিউইয়র্কে সময় তখন বেলা ২টো। ভিডিও কনফারেন্সের শুরুতেই মার্কিন ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের তরফে দ্বিতীয় বার জয়ের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সেই সঙ্গে তারা জানিয়ে দেয়, পেপসি, কোকাকোলা, কগনিজ্যান্ট-র মতো মার্কিন সংস্থা রাজ্যে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ শুধু উত্তর পূর্বাঞ্চল নয়, এশিয়ান দেশগুলির গেটওয়ে। অমিত মিত্র রাজ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ব্যাখ্যা করে বলেন, রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের পরিবেশ রয়েছে। এ রাজ্য থেকে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটানেও ব্যাবসার সুযোগ রয়েছে। কগনিজ্যান্ট নতুন করে ১৫ একর জমি নিয়েছে। সেখানে পুনরায় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা চালু করবে। নতুন করে ১৫ হাজার কর্মসংস্থান হতে চলেছে। কোকাকোলা ১২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তাদের প্রতিষ্ঠানে ‘মাজা’ তৈরি হচ্ছে। রাজ্যে বিনিয়োগের সব সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সব দিক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কত রাস্তা হয়েছে, কত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে তার উল্লেখ করেন অমিতবাবু। মার্কিন শিল্পপতিরা অমিতবাবুর কাছে জিএসটি নিয়ে রাজ্যের স্ট্যান্ড জানতে চান। তিনি বলেন, আর কোনও সংস্থাকে একাধিক ট্যাক্স দিতে হবে না। একটি ট্যাক্সের মাধ্যমে সব ট্যাক্স দেওয়া যাবে। তিনি যে জিএসটি’র এমপাওয়ার্ড কমিটির চেয়ারম্যান, তাও জানিয়ে দেন। সেই ভিডিও কনফারেন্সে নিউইয়র্কে উপস্থিত রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েনও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকারও ব্যাখ্যা করেন। ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ফ্র্যাঙ্ক উইজনারও পৌনে দু’ঘণ্টার ভিডিও কনফারেন্স নানা বিষয় তুলে ধরেন। জানতে চান, দেশ ও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পশ্চিমবঙ্গের শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, অর্থনৈতিক পরিবর্তনও জানতে চান অমিত মিত্রের কাছে। অমিতবাবু তাঁদের কাছে আগেই পাঁচ পাতার নোট পাঠিয়েছিলেন। সোমবার গভীর রাতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পুরো ব্যাখ্যা করেন। জানিয়ে দেন, রাজ্য স্থায়ী সরকার চলছে। সেই সঙ্গে পরিকাঠামো, ভারী শিল্প, শিক্ষা, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে বিনিয়োগ করার জন্য আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে আগামী ২০-২১ জানুয়ারি বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনে হাজির হওয়ার জন্য মার্কিন শিল্পপতিদের কাছে আবেদন করেন শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র। মার্কিন ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের এক প্রতিনিধিদল এ রাজ্যে আসতে পারে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।
#FAM #FAM4TMC

Comments
Post a Comment